গণভোটের ফলাফলে পরিষ্কারভাবে প্রতিফলিত হয়েছে যে, বাংলাদেশের জনগণ আর পুরোনো রাষ্ট্রীয় বন্দোবস্তে ফিরে যেতে চায় না। বরং তারা পরিবর্তন ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংস্কার চায়—এ মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আলী রীয়াজ।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আলী রীয়াজ বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিকরা সুস্পষ্ট ও দ্বিধাহীনভাবে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবের পক্ষে তাদের রায় দিয়েছেন। এই রায় থেকে স্পষ্ট যে দেশের বৃহদাংশ মানুষ আর পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে বা স্থিতাবস্থা বহাল রাখতে চান না। তারা চান পরিবর্তন ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় সংস্কার।’
সংস্কারের পক্ষে জনরায় এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,
‘এই গণরায়কে কেবল সংখ্যার হিসেবে দেখলে হবে না। এটি চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং অকুতোভয়ভাবে লড়াই করেছেন—তাদের প্রতি জনগণের দায়বদ্ধতার প্রকাশ। প্রায় ১৬ বছর ধরে বয়ে চলা বীরের রক্তস্রোত, মায়ের অশ্রুধারা ও নির্যাতিত মানুষের হাহাকার যেন আর ফিরে না আসে, সেই লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের জনআকাঙ্ক্ষাই এই রায়ের মূল কথা।’
সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন,
‘আপনারা গণভোটের খবর ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। আমাদের কাজের দুর্বলতার দিকে যেমন দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, তেমনি সাফল্যের দিকও তুলে ধরেছেন। যারা গণভোটের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি নিয়ে আমাদের সমালোচনা করেছেন, তাদের প্রতিও আমরা কৃতজ্ঞ।’
ড. আলী রীয়াজ আরও বলেন,
‘গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে যে সুস্পষ্ট জনরায় এসেছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর। ক্ষমতাসীন দল, সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদে প্রতিনিধিত্বকারী দল এবং সংসদের বাইরের সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান—আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে এই গণরায় বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।’
জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,
‘ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও আপস-সমঝোতার যে ঐতিহ্য রাজনৈতিক দলগুলো দেখিয়েছে, তা অক্ষুণ্ন রেখে এই দলিল বাস্তবায়নের দায়িত্বও তাদের ওপর অর্পিত হয়েছে।’
সিভিল সোসাইটির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,
‘এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।’
বিশেষ করে তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন,
‘ভবিষ্যতের বাংলাদেশ তোমাদের। সেই বাংলাদেশ গঠনের কাজে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে তরুণদেরই।’
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.