বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের সংগ্রামে যে ভোটাধিকার অর্জিত হয়েছে, সেই গণতান্ত্রিক যাত্রায় কেউ বাধা দিলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়নে অনুষ্ঠিত ‘বিএনপির দেশগড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, “যে দলের কোনো নীতি-আদর্শ নেই, যারা শুধু ধর্মের ট্যাবলেট বিক্রি করে ভোট চাইতে চায়—তাদের মুখোশ দেশের মানুষ জেনে গেছে। ইহকালে মানুষের কী হবে সেটির কোনো পরিকল্পনা তারা দেয় না।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপি শুধু ধর্মজড়িত আবেগ নয়, বরং জনগণের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর অগ্রগতি এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার বাস্তব পরিকল্পনা সামনে আনতে চায়।
বিএনপি নেতা বলেন, জনগণের ভাষায় কথা বলতে হবে, তাদের বাস্তব সমস্যার সমাধান তুলে ধরতে হবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, গ্রামের মানুষের কাছে গিয়ে বুঝিয়ে বলতে হবে যে কৃষি কার্ডই কৃষকের মুক্তির সনদ।
সালাহউদ্দিন আরও দাবি করেন, জিয়াউর রহমানই ছিলেন শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতার ঘোষক। তার আমলেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
তার অভিযোগ—পরবর্তীতে শেখ হাসিনা দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা গণতন্ত্রের মুখোশে একদলীয় বাকশালকে ফিরিয়ে এনেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন সামাজিক মাধ্যমে চরিত্রহনন ও রাজনৈতিক হনন বেড়ে গেছে। বিদেশ থেকে কেউ কেউ এমনভাবে লেখেন যেন তারাই সবজান্তা, কিন্তু দেশের প্রতি কোনো দায়িত্ববোধ নেই।
অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জামায়াত জান্নাতের টিকিট বিক্রির নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং ইউরোপের মধ্যযুগের অন্ধকার যুগ ফিরিয়ে আনতে চাইছে।