সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কারও চাঁদাবাজি করার কোনো সুযোগ নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ইঞ্জিন ও বগি সংযোজন করে রেলসেবাকে আরও উন্নত করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মন্ত্রী বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করবে। ঈদযাত্রায় মানুষের ভোগান্তি কমাতে ঈদের ছুটি বাড়ানো যায় কি না এবং তৈরি পোশাক শিল্পকারখানাগুলোতে আগে থেকেই ছুটি দেওয়া যায় কি না—সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পরিবহনে চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো নিজেদের কল্যাণে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কিছু অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। তবে কেউ যদি জোর করে টাকা আদায় করে, সেটাই চাঁদাবাজি এবং এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
ঢাকার যানজট কমাতে অন-স্ট্রিট পার্কিং বাতিলের প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। সিটি করপোরেশন যদি যত্রতত্র পার্কিং ইজারা দিয়ে থাকে, তবে তাদের ডেকে তা বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঈদের সময় গার্মেন্টস শ্রমিকদের দুই দিন আগে ছুটি দেওয়ার বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিবেচনা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেলের কাজ দ্রুতগতিতে শুরু হয়েছে এবং তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিআরটি প্রকল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি জনস্বার্থভিত্তিক নয় বরং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে নেওয়া হয়েছিল। ১২–১৪ লেনের সড়কের মাঝখানে দুটি লেন ব্যবহার করার নজির বিশ্বের কোথাও নেই। এ প্রকল্পের বিষয়ে সরকারের তেমন আগ্রহ না থাকলেও ঋণসংক্রান্ত বিষয় ও আইনি জটিলতার কারণে এটি বন্ধ করার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ ও জটিল।
শেখ রবিউল আলম বলেন, যেখানে জনস্বার্থ জড়িত, সেখানে দলীয় স্বার্থ নগণ্য। অতীতে শ্রমিক সংগঠন বা রাজনৈতিক প্রভাব থাকলেও ভবিষ্যতে তা থাকবে না। সরকারপ্রধান সততা ও কর্মদক্ষতার ওপর বিশ্বাস রেখে দায়িত্ব দিয়েছেন। দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছভাবে মন্ত্রণালয় পরিচালনা করাই সরকারের লক্ষ্য। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করাই এখন আমাদের মূল দায়িত্ব।