সিলেটের এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলছে একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতি। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ওয়ার্ড বয়কে ঘুষ না দিলে শয্যা মেলে না—ঘুষ দিলেই তবে মেলে চিকিৎসার জায়গা। ওষুধ সংকট, জনবল ঘাটতি ও নোংরা পরিবেশে নাকাল রোগীরা বাধ্য হচ্ছেন মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে।
সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে বেরিয়ে আসে হাসপাতালের ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র। দেখা যায়, ওষুধ সরবরাহে অনিয়ম, খাবার বিতরণে দুর্নীতি, অ্যাম্বুলেন্স সেবায় অনিয়ম, এমনকি আউটসোর্সিং কর্মচারীদের নিয়োগ ও বেতন ব্যবস্থাতেও ব্যাপক জটিলতা।
রোগীদের স্বজনরা বলছেন, “টাকা না দিলে সিট পাওয়া যায় না, মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হয়।” ওষুধও হাসপাতাল থেকে না পেয়ে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে অতিরিক্ত দামে।
দুদকের সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদার বলেন,
“আমরা অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করেছি। যাচাই-বাছাই শেষে কমিশনের অনুমতি নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগের মতোই দিচ্ছে আশ্বাসের বাণী। সহকারী পরিচালক ডা. বদরুল আমিন জানান,
“অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। অভিযুক্তদের বদলি করা হচ্ছে, আর আউটসোর্স কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রমাণ পেলে চাকরি বাতিল করা হচ্ছে।”
৫০০ শয্যার এই হাসপাতালটিতে প্রতিদিন প্রায় ৩,০০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে ঘুষ, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালটি এখন সাধারণ মানুষের ভোগান্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে।