ওমানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সর্বশেষ পরোক্ষ আলোচনাকে ‘ভালো শুরু’ বলে অভিহিত করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ভবিষ্যতে আলোচনার পরবর্তী ধাপ কী হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট রাজধানীগুলোর সঙ্গে পরামর্শের পর। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মাসকটে আলোচনা শেষে ইরানি টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আরাঘচি জানান, আলোচনায় ইতিবাচক সূচনা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনো গভীর অবিশ্বাস রয়ে গেছে। বিশেষ করে গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার বিষয়টি আলোচনার পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আলোচনাকে ‘খুব ভালো’ বলে মন্তব্য করেছেন। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই আরও আলোচনা হতে পারে। তবে একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে না আসে, তবে তার ‘ভয়াবহ পরিণতি’ হবে।
এই আলোচনায় ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন আব্বাস আরাঘচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অংশ নেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেন। তিনি জানান, উভয় পক্ষের অবস্থান পরিষ্কার করা গেছে এবং অগ্রগতির সম্ভাব্য ক্ষেত্র চিহ্নিত হয়েছে।
আলোচনার মূল ইস্যু ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং উত্তেজনা কমানো। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান যেন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করে। তবে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা কেবল পারমাণবিক ইস্যু নিয়েই আলোচনা করবে; ক্ষেপণাস্ত্র বা আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলো নিয়ে আলোচনা তাদের ‘রেড লাইন’।
এদিকে আলোচনার মাঝেই সামরিক শক্তি প্রদর্শন করেছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘খোররামশাহর-৪’-এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের ভিডিও প্রকাশ করেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, আলোচনায় বসা মানেই সামরিক শক্তি থেকে সরে আসা নয়।
ইরানের সাধারণ জনগণও পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কেউ কেউ আশাবাদী যে আলোচনা যুদ্ধের আশঙ্কা কমাবে এবং অর্থনৈতিক চাপ লাঘব করবে। আবার অনেকে মনে করছেন, দুই পক্ষের অবস্থান এতটাই বিপরীত যে আলোচনা ব্যর্থ হয়ে সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ ও বিমান মোতায়েন করেছে। ফলে আলোচনা চললেও যুদ্ধের আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। আগামী সপ্তাহে নতুন দফা বৈঠক হলে, সেটিই ঠিক করবে—এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত সমঝোতার দিকে যাবে, নাকি আরও সংঘাতের পথ খুলবে।