যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তার স্ত্রী মিশেল ওবামাকে বানর হিসেবে দেখানো একটি ভিডিও শেয়ার করে আবারও বিতর্কে জড়ালেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা ওই ভিডিওটিকে প্রকাশ্য বর্ণবাদী বলে আখ্যা দিয়েছেন ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি তার নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির নেতারাও। ব্যাপক সমালোচনার মুখে ভিডিওটি পরে সরিয়ে নেওয়া হয়।
রিপাবলিকান সিনেটর টিম স্কট বলেন, ভিডিওটি দেখে তিনি প্রার্থনা করছেন যেন এটি ভুয়া হয়, কারণ এটি তার দেখা “হোয়াইট হাউস থেকে আসা সবচেয়ে বর্ণবাদী জিনিস”। তিনি প্রেসিডেন্টকে পোস্টটি মুছে ফেলার আহ্বান জানান। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইক ললরও ভিডিওটিকে “অত্যন্ত আপত্তিকর” বলে মন্তব্য করেন এবং এটি অপসারণের দাবি জানান।
ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্পের অতীতের বিতর্কিত মন্তব্যের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এ ঘটনাকে দেখছেন। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিজ বলেন, “বারাক ও মিশেল ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের সেরা প্রতিনিধিত্ব করেন। তারা মেধাবী, সহানুভূতিশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক।”
হোয়াইট হাউস প্রথমে ভিডিওটিকে একটি “ইন্টারনেট মিম” বলে দাবি করে। পরে জানানো হয়, এটি নাকি ভুলবশত এক কর্মীর মাধ্যমে শেয়ার হয়েছে, প্রেসিডেন্ট নিজে করেননি। তবে ট্রাম্প নিজে দায় নিতে অস্বীকার করেন এবং ক্ষমা চাইতেও রাজি হননি। তিনি বলেন, ভিডিওর শুরুটা দেখেছেন এবং তাতে কোনো সমস্যা দেখেননি।
Praying it was fake because it’s the most racist thing I’ve seen out of this White House. The President should remove it. https://t.co/gADoM13ssZ
— Tim Scott (@votetimscott) February 6, 2026
ভিডিওটিতে ২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপির মিথ্যা অভিযোগও ছিল। এতে ওবামা দম্পতির বিকৃত ছবি ব্যবহার করা হয় এবং পেছনে বাজানো হয় ১৯৬১ সালের গান The Lion Sleeps Tonight। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের পোস্ট ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষোভ উসকে দিয়ে অন্য রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা।
নেব্রাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর পিট রিকেটসও বলেন, “এটি ‘লায়ন কিং’ মিম হলেও একজন সাধারণ মানুষ এর বর্ণবাদী ইঙ্গিত বুঝতে পারবে। হোয়াইট হাউসের উচিত পোস্ট সরিয়ে নিয়ে ক্ষমা চাওয়া।”
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রাজা কৃষ্ণমূর্তি এই ভিডিওকে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে জিম ক্রো যুগের অপমানজনক চিত্রণের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের অমানবিক উপস্থাপন লজ্জাজনক এবং রাষ্ট্রপতির মর্যাদার পরিপন্থী।”
এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগমুহূর্তে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের এমন কর্মকাণ্ড দেশটির রাজনীতিতে বর্ণবাদ ও বিভাজন আরও গভীর করছে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.