জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে ১২ দলীয় নির্বাচনী জোট গঠনের পর অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনে পড়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জোট গঠনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ইতোমধ্যে দলটির একাধিক কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতা পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারী নেতাদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরির সংগ্রাম থেকে এনসিপি সরে এসেছে বলেই তারা মনে করেন।
তবে দলীয় নেতৃত্ব বলছে ভিন্ন কথা। এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানান, কিছুটা দোলাচল তৈরি হলেও দলের অধিকাংশ নেতা-কর্মী এখনো ১২ দলীয় জোটের পক্ষে রয়েছেন এবং এই রাজনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আশাবাদী।
গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের হাত ধরেই গড়ে ওঠে দলটি। এনসিপির নেতৃত্বে রয়েছেন নাহিদ ইসলাম। তার সঙ্গে সামনের সারিতে রয়েছেন জুলাই আন্দোলনের একাধিক পরিচিত মুখ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ১০ ডিসেম্বর এনসিপি ১২৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে। একই সঙ্গে দলটি জানায়, চূড়ান্তভাবে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এবি পার্টি ও রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে জোট করে এনসিপি। এর দুই সপ্তাহের মাথায় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠন করায় নতুন করে আলোচনায় আসে দলটি।
এই সিদ্ধান্তের পরপরই এনসিপির ভেতরে মতপার্থক্য প্রকাশ্য হয়ে ওঠে। অন্তত ৩০ জন নেতা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তবে দলীয় নেতৃত্ব জোটের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় শুরু হয় পদত্যাগের হিড়িক। কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ও তৃণমূল পর্যায়ের অন্তত দেড় ডজন নেতা দল ছাড়েন। তাদের কেউ কেউ স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, আবার কয়েকজন রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।
দলত্যাগকারী নেতাদের অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনে পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আপস করেছে এনসিপি এবং সেই আপসের শর্তগুলো আত্মমর্যাদাহানিকর।
তবে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে এই সংকট দলটির জন্য বড় কোনো বাধা নয়। তাদের ভাষ্য, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিশ্বাসী এনসিপি। দলের ভেতরে যেসব শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত পূরণ করা হবে এবং সেই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
সারোয়ার তুষার বলেন, “এনসিপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। ভিন্নমত থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে দলের অধিকাংশই ১২ দলীয় জোটের পক্ষে রয়েছে এবং আমরা সামনের পথ নিয়ে আশাবাদী।”
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.