জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আখতার হোসেন বলেছেন, একজন মানবতাবিরোধী ও গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির ইচ্ছা অনুযায়ী ভারতের কূটনীতি পরিচালিত হতে পারে না। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চাইলে শেখ হাসিনাকে দ্রুত দেশ ফিরিয়ে দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, ব্যক্তিগত ইচ্ছার ভিত্তিতে তাকে ভারতের মাটিতে রাখা যৌক্তিক নয়।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে এনসিপি সমর্থিত ন্যাশনাল প্রফেশনালস অ্যালায়েন্স–এর আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার মতো খুন ও নির্যাতনের অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা না গেলে বাংলাদেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত এসব পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে দেখছে এবং অতীতে নির্বাচনসহ বিভিন্ন অন্যায় কর্মকাণ্ডে সহযোগী ভূমিকা রেখেছে।
এনসিপির এই নেতা বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই বিএনপি ও জামায়াত অস্ত্রের প্রদর্শনী শুরু করেছে। পিস্তল উঁচিয়ে মহড়া দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা সহিংস রাজনীতির পথে হাঁটবে, তাদের পরিণতিও হবে আওয়ামী লীগের মতো—সাজোয়া বাহিনী থাকলেও সেই সরকার টেকেনি।
পেশাজীবীদের বৈষম্য দূর করতে এবং সিন্ডিকেট ভাঙার ওপর গুরুত্ব দেন আখতার। তিনি বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন নিশ্চিত না করলে দেশ এগোতে পারে না। নতুন বাংলাদেশে কোনো পেশাজীবীকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না। রাজনীতি সচেতন পেশাজীবীরাই সঠিক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবেন।
অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এনসিপি ক্ষমতায় এলে বা সরকারে অংশ নিলে বেসরকারি চাকরিতেও শনিবার সরকারি ছুটির ঘোষণা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু চাকরি নয়—দেশে উদ্যোক্তা তৈরির পরিবেশ গড়ে তোলাই হবে দলের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, এনসিপি কোনো দলের কাছে সিট ভাগাভাগির জন্য যাবে না; তারা স্বতন্ত্রভাবেই নির্বাচনে অংশ নেবে।
ভারতকে উদ্দেশ্য করে পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে যেন কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করা হয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি হস্তক্ষেপ করা হয়, তবে ভারতে যেসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ রয়েছে সেগুলোর ওপর প্রভাব পড়তে পারে।