মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের স্থান নিয়ে ধোঁয়াশা কেটেছে। আগামী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। শুরুতে ইস্তাম্বুলে বৈঠকের পরিকল্পনা থাকলেও তেহরানের প্রস্তাবের পর স্থান পরিবর্তন করে ওমানে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরানে হামলার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি এবং তেহরানের পাল্টা হুঁশিয়ারিতে যখন যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে, ঠিক তখনই এই বৈঠকের খবর নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সংঘাত এড়াতে আঞ্চলিক শক্তিগুলোও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বলে জানা গেছে।
প্রথমদিকে ইরান চাইছিল বৈঠকটি দ্বিপাক্ষিক ফরম্যাটে হোক এবং ইস্তাম্বুলের বদলে ওমানে অনুষ্ঠিত হোক। মার্কিন প্রশাসন শুরুতে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও পরে আরব নেতাদের অনুরোধে ওমানে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়—এমন তথ্য দিয়েছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
তবে বৈঠকের মূল জটিলতা তৈরি হয়েছে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কেবল তাদের পরমাণু কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে কোনো আলোচনা করতে রাজি নয় তেহরান।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও বিস্তৃত। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, অর্থবহ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতিও আলোচনার টেবিলে আনতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে কাতার, তুরস্ক ও মিশর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান আগামী তিন বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে এবং তাদের মজুত ইউরেনিয়াম কোনো তৃতীয় দেশে পাঠাবে। একই সঙ্গে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের কথাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ‘অনাক্রমণ চুক্তি’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে দুই পক্ষ একে অপরের ওপর হামলা না করার অঙ্গীকার করবে। তবে এই প্রস্তাবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি দেয়নি কোনো পক্ষই।
বিশ্লেষকদের মতে, ওমান বৈঠক সফল হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আলোচনার এজেন্ডা নিয়ে দুই দেশের অবস্থান এতটাই ভিন্ন যে, সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ হবে না।