ইসরায়েল যদি পুরো মধ্যপ্রাচ্য দখল করে নেয়, তাতেও আপত্তি নেই, এমন মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি।
শুক্রবার মার্কিন রক্ষণশীল উপস্থাপক টাকার কার্লসনের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাইবেলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ইহুদিদের জন্য নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত অঞ্চল প্রতিশ্রুত ভূমি। এই ভূখণ্ডের মধ্যে বর্তমান লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান ও সৌদি আরবের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত। এ প্রসঙ্গে হাকাবি বলেন, “তারা যদি সব দখল করে নেয়, সেটাও ঠিক থাকবে।”
হাকাবি জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় তাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে অবশ্য তিনি তার বক্তব্যকে কিছুটা ‘অতিরঞ্জিত’ বলে দাবি করেন। তবে তিনি বলেন, যদি ইসরায়েল হামলার শিকার হয়ে যুদ্ধে জয়ী হয় এবং নতুন ভূখণ্ড দখল করে, সেটি “আলাদা আলোচনার বিষয়”।
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বলপ্রয়োগ করে ভূমি দখল নিষিদ্ধ। ২০২৪ সালে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিস রায় দেয় যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখল অবৈধ এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
তবে ইসরায়েল এখনও নিজস্ব আইনে স্পষ্টভাবে চূড়ান্ত সীমান্ত নির্ধারণ করেনি। দেশটি সিরিয়ার গোলান মালভূমি দখল করে রেখেছে, যা ১৯৮১ সালে একতরফাভাবে সংযুক্ত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আর কোনো দেশ এ সংযুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি।
এদিকে, ২০২৪ সালে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধের পর ইসরায়েল লেবাননের ভেতরে পাঁচটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচসহ কয়েকজন ইসরায়েলি নেতা প্রকাশ্যে ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ ধারণার পক্ষে মত দিয়েছেন।
হাকাবি আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট ও আইসিজে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ হয়ে পড়েছে। এসব সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও অনিশ্চিত করে তুলবে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.