ইসরায়েলের কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি সাংবাদিকরা নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন, অনাহার এবং যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অধিকার সংস্থা
প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্দিদের ওপর লাঠিপেটা, বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, কষ্টকর ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা—এমনকি নোংরা পানির মধ্যে আটকে রাখার মতো নির্যাতন চালানো হয়েছে। পাশাপাশি যৌন নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে। দুইজন সাংবাদিক ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এক সাংবাদিক সামি আল-সাই বলেন, ইসরায়েলের মেগিদ্দো কারাগারে তাকে নগ্ন করে লাঠি ও অন্যান্য বস্তু দিয়ে যৌন নির্যাতন করা হয়। এ অভিজ্ঞতার পর তিনি গুরুতর মানসিক আঘাতে ভুগছেন বলে জানান।
সিপিজে জানায়, এসব যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্য ছিল সাংবাদিকদের অপমান করা, আতঙ্ক ছড়ানো এবং আজীবনের জন্য মানসিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া।
অনেক সাংবাদিক জানিয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘুম বঞ্চিত করতে উচ্চ শব্দে গান চালানো হয়েছে এবং গুরুতর আহত হলেও চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।
সাংবাদিক আমিন বারাকা বলেন, তিনি আল জাজিরা–এর সঙ্গে কাজ করার কারণে হুমকির মুখে পড়েন। এক ইসরায়েলি সেনা তাকে বলেন, “আল জাজিরার সাংবাদিক ওয়ায়েল আল-দাহদুহ আমাদের অমান্য করেছিল, তাই আমরা তার পরিবারকে হত্যা করেছি। তোমার পরিবারকেও হত্যা করা হবে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, আটক সাংবাদিকদের ৮০ শতাংশকে প্রশাসনিক আটক আইনে বন্দি রাখা হয়েছে—যেখানে কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই দীর্ঘদিন কারাবন্দি রাখা হয়। প্রতি চারজনের একজন কখনোই আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাননি।
অধিকাংশ সাংবাদিক চরম অপুষ্টি ও অনাহারে ভুগেছেন। কারাগারে তাদের অনেককে পচা খাবার ও ছাঁচধরা রুটি খেতে বাধ্য করা হয়েছে। গড়ে একজন সাংবাদিক কারাবন্দি অবস্থায় ২৩.৫ কেজি ওজন হারিয়েছেন।
সিপিজের আঞ্চলিক পরিচালক সারা কুদাহ বলেন, “এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাংবাদিকদের ভয় দেখানো ও নীরব করার একটি পরিকল্পিত কৌশল এখানে স্পষ্ট।”
সিপিজের প্রধান নির্বাহী জোডি গিন্সবার্গ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী বন্দিদের সঙ্গে আচরণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এসব লঙ্ঘনের জন্য ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
ইসরায়েলের কারাগারগুলোতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ আগেও উঠেছে, বিশেষ করে কুখ্যাত স্দে তেইমান বন্দিশিবির নিয়ে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভীর আগে ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি ‘চরম কঠোর আচরণ’-এর পক্ষে কথা বলেছেন।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ‘শিরিন ডট পিএস’ নামের একটি পর্যবেক্ষণ সংস্থা, যা নিহত সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ–এর নামে প্রতিষ্ঠিত।
২০২৫ সালের আগস্টে গাজার দক্ষিণে একটি হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় পাঁচজন সাংবাদিক নিহত হন। তাদের মধ্যে রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস–এর সহযোগী সাংবাদিকরাও ছিলেন।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.