ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি স্থাপন এবং গাজা থেকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনে সম্মত হওয়ার অভিযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে সোমালিল্যান্ড। অঞ্চলটি জানিয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল সম্পূর্ণ কূটনৈতিক এবং তা আন্তর্জাতিক আইনের পূর্ণ সম্মান রেখেই পরিচালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সোমালিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যায়িত করে। সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, ইসরায়েলের স্বীকৃতির বিনিময়ে সোমালিল্যান্ড তিনটি শর্তে সম্মত হয়েছে—
১) ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসন
২) এডেন উপসাগরের উপকূলে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন
৩) আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা
সোমালিল্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব দাবির কোনো সত্যতা নেই। তবে অঞ্চলটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিস্তিনি পুনর্বাসন বা সামরিক ঘাঁটির বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানালেও, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করেননি। এদিকে, আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করা হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে জানান, সোমালিল্যান্ড একটি “গণতান্ত্রিক ও মধ্যপন্থী মুসলিম দেশ” হিসেবে আব্রাহাম চুক্তিতে যুক্ত হতে চায়। গত সপ্তাহে ইসরায়েলই প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যা অঞ্চলটির তিন দশকের স্বীকৃতি প্রচেষ্টায় বড় অগ্রগতি।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদুর রহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহি (সিরো) শিগগিরই ইসরায়েল সফরে যেতে পারেন। সফরকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট এই স্বীকৃতিকে “ইসরায়েলের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ কৌশলগত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের আড়াল” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গাজার সংকট ইসরায়েল আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে রপ্তানি করতে চাইছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন সংকটের দ্বার খুলে দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, লাল সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত সোমালিল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান ইসরায়েলের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ইয়েমেনের হুথিদের গতিবিধি নজরদারির ক্ষেত্রে এই অঞ্চল সম্ভাব্য সামরিক ও গোয়েন্দা ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
এদিকে ইসরায়েলের স্বীকৃতির প্রতিবাদে সোমালিয়াজুড়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর রাজধানী মোগাদিশুসহ বিভিন্ন শহরে দশ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। আফ্রিকান ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৫০টির বেশি দেশ সোমালিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
সব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট নববর্ষের ভাষণে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, শিগগিরই আরও অনেক দেশ সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেবে। উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে গৃহযুদ্ধের সময় সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও এখনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি সোমালিল্যান্ড।