শত্রুদের বিরুদ্ধে আগাম হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা নীতিনির্ধারণী সংস্থা ইরানিয়ান ডিফেন্স কাউন্সিল স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা দেয়।
গত বছর ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের পর প্রতিরক্ষামূলক কৌশল পরিচালনার লক্ষ্যে এই কাউন্সিল গঠন করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা দেশটিতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করা হলে তার “দাঁতভাঙা জবাব” দেওয়া হবে। কাউন্সিল জানায়, ইরান কেবল হামলার পর প্রতিক্রিয়া জানানোতেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখবে না; বরং নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো “দৃশ্যমান হুমকির লক্ষণ” বিবেচনায় নিয়ে আগাম পদক্ষেপ নিতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা তাদের কাছে একটি “লাল রেখা”। কোনো ধরনের আগ্রাসন বা শত্রুতামূলক আচরণের জবাব হবে “সমানুপাতিক, দৃঢ় ও চূড়ান্ত”।
যদিও বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য মূলত ইসরাইলকে লক্ষ্য করেই দেওয়া হয়েছে।
এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানের ভেতরে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রার মানের তীব্র অবমূল্যায়নের কারণে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের এই বক্তব্য ইসরাইলের সঙ্গে দেশটির বিরোধ আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন হামলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনার কথাও ওই আলোচনায় উঠে আসে।
এদিকে ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি সতর্ক করে বলেছেন, শত্রুদের হুমকি ও আগ্রাসী বক্তব্যকে সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) আর্মি কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “যেকোনো আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।”
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.