ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত কার্যত চূড়ান্ত হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে পশ্চিমা একটি কূটনৈতিক সূত্র। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী মহলে কূটনৈতিক পথ থেকে সরে এসে সামরিক অভিযানের দিকেই অগ্রসর হওয়া হয়েছে, যেখানে এখন মূল প্রশ্ন আর “হামলা হবে কি না” নয়, বরং “কবে হবে” — এমনটাই জানিয়েছে সমন্বয় আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একটি পশ্চিমা সূত্র।
ইরান ইন্টারন্যাশনালকে দেওয়া তথ্যে ওই সূত্র জানায়, চলমান বৈঠকগুলোতে হামলার উপযুক্ত সামরিক ও রাজনৈতিক সময় নির্ধারণ নিয়েই আলোচনা চলছে। এই সময়সীমা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেও আসতে পারে, আবার কয়েক সপ্তাহ সময়ও লাগতে পারে। সূত্রটি জোর দিয়ে বলেছে, আগের মতো কোনো নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর কৌশল এখন আর আলোচনার কেন্দ্রে নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা করছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছেন এবং পেন্টাগনের প্রধান ঘোষণা দিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত ট্রাম্প দেশটির বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ না করছেন, ততক্ষণ তারা কোনো আলোচনায় বসবে না।
পশ্চিমা সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মূল্যায়নে হামলার মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ইরানের শাসন কাঠামোকে গুরুতরভাবে দুর্বল করা এবং শেষ পর্যন্ত সেটিকে ভেঙে দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা। সূত্রটির ভাষায়, “এটি এমন এক পরিস্থিতি হবে, যা আকার ও তীব্রতায় ইরান আগে কখনো দেখেনি।”
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত এই সামরিক অভিযান হবে “অভূতপূর্ব”। তার ভাষায়, “এবার আমরা এমন একটি হামলার মুখোমুখি হব, যার উদাহরণ আগে নেই।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আলোচনায় আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন। সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা এটিকে একটি “জীবনে একবার পাওয়া সুযোগ” হিসেবে দেখছেন। ফলে ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
সূত্রটি জানায়, গত বছরের জুনে হওয়া ১২ দিনের সংঘাতের সময় ওয়াশিংটন ও তেল আবিব বড় ঝুঁকি নিতে চায়নি। তবে এখনকার দৃষ্টিভঙ্গি হলো, বর্তমান সময়কে কাজে লাগানো জরুরি।
গত জুনে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে আকস্মিক সামরিক অভিযান চালায়। পরে ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসফাহান, নাতাঞ্জ ও ফোরদোতে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এসব হামলা হয় ট্রাম্প নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমার মধ্যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারায়।
শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, তিনি সরাসরি ইরানকে চুক্তির জন্য সময়সীমা জানিয়ে দিয়েছেন, তবে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি।
‘ইসরায়েল পূর্ণ সতর্কতায়’
সূত্রটি আরও জানায়, ইসরায়েলের সরাসরি অংশগ্রহণ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। যদি ইসরায়েল সরাসরি অভিযানে যুক্ত হয়—যা আগে থেকেই পরিকল্পিত—তবে অভিযানের পরিসর ব্যাপকভাবে বাড়বে। সে ক্ষেত্রে গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধ বর্তমান পরিকল্পনার তুলনায় “খুবই ছোট” বলে মনে হবে।
সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল বর্তমানে পূর্ণ সতর্কতায় রয়েছে। আলোচ্য একটি পরিস্থিতিতে অপেক্ষা করা হতে পারে কোনো “উসকানি” বা “স্পার্ক”-এর জন্য—যেমন ইরান যদি প্রথমে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, সেটিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আরও বড় ও ধ্বংসাত্মক অভিযান শুরু করা হতে পারে।
সূত্রটি বলেন,
“সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। এটি ঘটবেই। এখন একমাত্র প্রশ্ন—কবে।”
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.