ইরানে সরকার পরিবর্তনের প্রস্তাব ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসলামি বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে স্বঘোষিত ‘যুবরাজ’ রেজা পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন তিনি। ট্রাম্প বলেছেন, এই মুহূর্তে তার সঙ্গে দেখা করাটা সমীচীন হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে ইরানে সরকার পতন হলে ওয়াশিংটন যে এখনই কাউকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত নয়, সেটিই পরিষ্কার হয়ে গেল।
রেজা পাহলভি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। ইরানে চলমান বিক্ষোভকে সামনে রেখে তিনি প্রকাশ্যেই সরকার পতনের পর নেতৃত্ব দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে (৭ জানুয়ারি) তিনি দাবি করেন, ‘স্বৈরাচারি শাসন থেকে গণতন্ত্রে রূপান্তরের’ নেতৃত্ব দিতে তিনি প্রস্তুত। তিনি বলেন, জাতীয় গণভোট ও সাংবিধানিক পরিষদের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনই তার লক্ষ্য এবং প্রয়োজনে ‘চূড়ান্ত লড়াইয়ের’ জন্য ইরানে পা রাখতেও প্রস্তুত।
পাহলভি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র, বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান, পাহলভি ‘ভালো মানুষ’ হলেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার সঙ্গে এখন সাক্ষাৎ করা ঠিক হবে না। ইরানের পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, সবারই মাঠে নামার সুযোগ পাওয়া উচিত, শেষ পর্যন্ত কে সামনে আসে তা দেখাই ভালো।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী পাহলভির সঙ্গে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি ইরানের রাজতন্ত্রপন্থি বিরোধী শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে—বর্তমান শাসনব্যবস্থা পতন হলেও পাহলভির নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র এখনই সমর্থন দেবে না।
উল্লেখ্য, ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা কারাজ, ইসফাহান, শিরাজ, কেরমানশাহসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে যোগ দেন। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভে সহিংসতা, সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির দাবি, এ পর্যন্ত অন্তত ৩৪ জন বিক্ষোভকারী ও চারজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ২ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয় বলে জানিয়েছে নেটব্লকস।
ট্রাম্প শুরু থেকেই ইরান সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোরভাবে জবাব দেবে। ট্রাম্পের এই অবস্থানের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রেজা পাহলভি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘মুক্ত বিশ্বের নেতা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ, যিনি এই শাসনব্যবস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.