ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে আবারও সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিতে পারেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সরকার “মহা বিপদের” মধ্যে রয়েছে। খবর আল জাজিরার।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন,
“ইরান বড় বিপদে আছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে বিক্ষোভকারীরা অনেক শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে—যা কয়েক সপ্তাহ আগেও কল্পনাতীত ছিল।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,
“আমি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি—যদি আগের মতো বিক্ষোভকারীদের হত্যা শুরু হয়, আমরা হস্তক্ষেপ করব। এর মানে এই নয় যে আমাদের সেনারা ইরানে ঢুকবে; বরং যেখানে আঘাত করলে তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সেখানে অত্যন্ত কঠোর হামলা চালানো হবে।”
পরমাণু ইস্যুতে পরোক্ষ আলোচনার মধ্যেই গত বছরের জুনে ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানে হামলা চালিয়েছিলেন ট্রাম্প। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর গত সপ্তাহেও তিনি ইরানে হামলার হুমকি দেন এবং বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
ডলারের বিপরীতে রিয়ালের রেকর্ড দরপতন, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে ব্যবসায়ীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা কারাজ, ইসফাহান, শিরাজ, কেরমানশাহসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে; এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
বিক্ষোভ প্রশমনে সরকার আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি প্রতি পরিবারকে মাসিক প্রায় ৭ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। মানবাধিকার সংস্থা HRANA জানায়, এ পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন নিহত (৪৮ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪ জন নিরাপত্তা সদস্য) এবং ১,২০০-এর বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে। আধা-সরকারি ফার্স নিউজ বলছে, অন্তত ৩০০ পুলিশ ও আইআরজিসি সদস্য আহত হয়েছেন।
এদিকে বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা নিয়ে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এবং আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, “শত্রুর পরিকল্পনা সম্পূর্ণ পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।”
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অস্থিরতা দমনে কর্তৃপক্ষ পিছু হটবে না এবং বিদেশি শক্তি—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র—বিক্ষোভ উসকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.