ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইরানে সীমিত আকারের স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনায় পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন না থাকলেও বিশেষ বাহিনী ও পদাতিক সেনাদের মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অভিযান চালানো হতে পারে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্রখার্গ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় হামলার সম্ভাবনা রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব প্রস্তুতি কেবল সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে রাখা হচ্ছে। এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম জানিয়েছে, প্রায় ৩,৫০০ অতিরিক্ত সেনা অঞ্চলে পৌঁছেছে। তাদের সঙ্গে যুদ্ধবিমান, অ্যাম্ফিবিয়াস আক্রমণ সক্ষমতা এবং অন্যান্য কৌশলগত সরঞ্জামও রয়েছে।
এছাড়া ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট এবং ইউএসএস ত্রিপোলি যুদ্ধজাহাজের মাধ্যমে এই বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপের জবাবে কড়া অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ বলেছেন, একদিকে আলোচনা প্রস্তাব দেওয়া হলেও অন্যদিকে গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা চলছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, তবে কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং আঞ্চলিক মিত্রদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হতে পারে।
ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান শাহরাম ইরানি আরও সতর্ক করে জানিয়েছেন, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন তাদের আক্রমণের সীমার মধ্যে এলে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে বাব আল-মান্দেব প্রণালী-এ নতুন ফ্রন্ট খোলার হুমকি এবং ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
একই সঙ্গে পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশর মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.