টানা পঞ্চম দিনের মতো সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। দেশজুড়ে চলমান সহিংসতায় একদিনেই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক মানুষ। এই পরিস্থিতিতে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যদি অতিরিক্ত সহিংসতা চালানো হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত রয়েছে।
মূলত অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে গত রোববার ইরানের রাজধানী তেহরানে ধর্মঘট শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ জনগণ এতে যুক্ত হলে আন্দোলন দেশটির বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে তা সহিংস রূপ নেয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন হুঁশিয়ারিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি বলেন, মার্কিন হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলবে এবং শেষ পর্যন্ত আমেরিকার স্বার্থই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এদিকে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা আলি শামখানি আরও কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইরানের নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপ করতে এলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।”
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, লোরদেগান ও আজনা শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৭ জন। এছাড়া কুহদাশত শহরে বিক্ষোভকারীদের হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে।
চাহারমাহাল ও বখতিরি প্রদেশের লর্ডেগান এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের পুলিশ লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে। ফারস নিউজ জানায়, গভর্নরের কার্যালয়, ব্যাংক ও অন্যান্য সরকারি ভবনেও হামলা চালানো হয়েছে।
কুহদাশতের প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, সহিংসতার ঘটনায় ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া তেহরানের মালার্ড কাউন্টি থেকে আরও ৩০ জনকে জনশৃঙ্খলা বিনষ্টের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভের পর এটিই ইরানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইরানে চলমান ভয়ভীতি, সহিংসতা ও গণগ্রেপ্তারের ঘটনায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং কর্তৃপক্ষকে সাধারণ জনগণের ওপর দমনপীড়ন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।