ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সিরিয়া থেকে অবশিষ্ট সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, সিরিয়ার ভেতরে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের নেতৃত্ব এখন দেশটির সরকারই দেবে। তাই ‘বৃহৎ পরিসরে’ মার্কিন সামরিক উপস্থিতির আর প্রয়োজন নেই।
২০১৫ সাল থেকে সিরিয়ায় অবস্থান করছে মার্কিন সেনারা। মূলত ইসলামিক স্টেট (আইএসআইএস)-এর প্রভাব মোকাবিলায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে তারা সেখানে মোতায়েন রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন, ঠিক তখনই সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত এলো।
হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সিরিয়ায় থাকা প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনাকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি একটি শর্তসাপেক্ষ রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটির যেকোনো হুমকির জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে।
এদিকে ইরান-এ সম্ভাব্য সামরিক হামলার সময়সূচি নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহান্তে, অর্থাৎ শনিবারের মধ্যেই ইরানে হামলা চালানোর জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রস্তুত বলে শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিবিএস নিউজ জানায়, হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। আলোচনাগুলো এখনো চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।
সূত্রগুলো জানায়, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ বা ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু মার্কিন সেনা ও কর্মীকে সাময়িকভাবে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নিচ্ছে।
হোয়াইট হাউস বলছে, হামলা হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং সামরিক ঝুঁকির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.