মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। রোববার (৮ মার্চ)অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস তাকে নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচন করে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই পশ্চিমা ও ইসরায়েলি বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবার নাম আলোচনায় আসে।
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি আলি খামেনির দ্বিতীয় বড় ছেলে। তার সঙ্গে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী রেভোল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
তিনি বিবাহিত জাহরা হাদ্দাদ-আদেল–এর সঙ্গে, যিনি ইরানের রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ স্পিকার গোলাম-আলী হাদ্দাদ-আদেল–এর মেয়ে। ২০০৪ সালে তাদের বিয়ে হয়। তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে।
১৯৬৯ সালে মাশহাদ–এ জন্মগ্রহণ করেন মোজতবা। ১৯৭৯ সালের ইরানি ইসলামি বিপ্লব–এর পর খামেনি পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব দ্রুত বাড়তে থাকে।
তেহরানে পড়াশোনা শেষে তিনি ধর্মীয় শিক্ষা নিতে যান কোম–এ। সেখানে দীর্ঘ সময় ধর্মীয় শিক্ষায় কাটালেও তিনি এখনো আয়াতুল্লাহ পদমর্যাদা অর্জন করেননি।
মোজতবা কখনো আনুষ্ঠানিক সরকারি পদে ছিলেন না এবং জনসমক্ষে খুব কমই দেখা যায়। তবে ইরানের জটিল ধর্মতান্ত্রিক কাঠামোয় তিনি দীর্ঘদিন ধরে পর্দার আড়ালের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তখন ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব ছাড়াই তিনি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছেন।
নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর রেভোল্যুশনারি গার্ডস তাকে অভিনন্দন জানিয়ে “আন্তরিক ও আজীবন আনুগত্য” ঘোষণা করেছে। তারা জানিয়েছে, তার নির্দেশ বাস্তবায়নে সব সময় প্রস্তুত থাকবে।
এছাড়া ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং দেশটির শীর্ষ কূটনীতিক আব্বাস আরাঘচিও তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন নেতার নিয়োগ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরাইলকে–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি শুধু বলেন, “দেখা যাক কী হয়।”
এর আগে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ইরানের নতুন নেতা তার “অনুমোদন” ছাড়া বেশি দিন টিকতে পারবেন না।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.