পবিত্র রমজান মাসে ইতিকাফ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ, গুনাহ থেকে দূরে থাকা এবং বিশেষ করে শবে কদর-এর ফজিলত অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়।
ইতিকাফের অর্থ হলো—মানুষ পার্থিব ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকে আল্লাহর ইবাদতে নিজেকে নিয়োজিত করা এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। ইসলামের মহান নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনা জীবনের প্রায় প্রতি বছরই রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করেছেন। এক বছর জিহাদের কারণে ইতিকাফ করতে না পারলেও পরের বছর ২০ দিন ইতিকাফ করে তা পূরণ করেছিলেন।
ইতিকাফের ফজিলত
একটি হাদিসে এসেছে—
“যে ব্যক্তি রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করবে, সে যেন দুইটি হজ ও দুইটি উমরার সওয়াব লাভ করল।”
(উৎস: শুআবুল ঈমান)
যদিও হাদিসটির সনদ দুর্বল বলা হয়, তবে ফজিলতের ক্ষেত্রে অনেক আলেম এ ধরনের হাদিস গ্রহণযোগ্য মনে করেন।
আরেক হাদিসে বলা হয়েছে—
“ইতিকাফকারী ব্যক্তি গুনাহ থেকে নিজেকে বিরত রাখে এবং তার জন্য সব নেক আমলকারীর মতো সওয়াব লেখা হয়।”
(উৎস: সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৭৮১)
ইতিকাফের কিছু উপকারিতা
গুনাহ থেকে দূরে থাকার সুযোগ সৃষ্টি হয়। আল্লাহর ইবাদতে বেশি সময় দেওয়া যায়। কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার সুযোগ বাড়ে। শবে কদরের ফজিলত লাভের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। ইতিকাফের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা
১. পুরুষদের জন্য রমজানের শেষ দশকে মসজিদে ইতিকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাদাহ আলাল কিফায়াহ। অর্থাৎ এলাকার কেউ ইতিকাফ না করলে সবাই গুনাহগার হবে। ২. নারীরা নিজ ঘরে নির্ধারিত স্থানে ইতিকাফ করতে পারেন। ৩. ইতিকাফকারীকে সব সময় মসজিদের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে থাকতে হবে। শরয়ি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে গেলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। ৪. অজুখানা, টয়লেট, ইমাম বা খতিবের কক্ষ, মসজিদের গুদাম ইত্যাদি সাধারণত মসজিদের অংশ নয়—সেগুলোতে গেলে ইতিকাফ নষ্ট হতে পারে। ৫. মেহরাব মসজিদের অংশ হওয়ায় সেখানে যাওয়া যাবে। ৬. সাধারণত ২০ রমজানের সূর্যাস্ত থেকে ঈদের চাঁদ দেখা পর্যন্ত ইতিকাফে থাকতে হয়। ৭. ইতিকাফে বসার আগে মসজিদের সীমানা সম্পর্কে মসজিদ কর্তৃপক্ষ বা কমিটির কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত।
ইতিকাফ মূলত আত্মশুদ্ধি, তওবা এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার একটি বিশেষ সুযোগ। তাই রমজানের শেষ দশকে এই ইবাদত পালনে মুসলমানদের উৎসাহিত করা হয়েছে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.