ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্প্রতি হওয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাংলাদেশের জন্য সরাসরি ক্ষতির কারণ হচ্ছে না। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, চুক্তি কার্যকর হলে ভারতের পণ্য বিনাশুল্কে ইউরোপে প্রবেশ করবে, যার ফলে বাংলাদেশের রফতানিতে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে।
বর্তমানে, এলডিসি উত্তরণের আগে বাংলাদেশ জিএসপি প্লাস স্কিমের আওতায় ইউরোপে রফতানি সুবিধা পাচ্ছে। বিজিএমইএ’র জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলছেন, “ভারতের সুবিধা পেলেও বাংলাদেশের বাজার ২০২৯ সাল পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকবে। তাই বর্তমান সময়ে তাত্ক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব নেই।”
অর্থনীতিবিদরা জানাচ্ছেন, চুক্তি কার্যকর হলে (২০২৭ সালে) ভারত বিনাশুল্কে ইউরোপে পোশাক ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানি করতে পারবে। এতে বাংলাদেশের বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র হবে। র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “২০২৯ সালের পর বাংলাদেশের রফতানিতে প্রায় ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে, যা আমাদের বাজার সুবিধার উপর প্রভাব ফেলবে।”
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি এফটিএ এবং ভারতের বাজার সম্প্রসারণ আমাদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করবে। তাই বাংলাদেশের জন্য জিএসপি প্লাস সুবিধা নিশ্চিত করা এবং নতুন বাণিজ্য চুক্তি করার তাগিদ রয়েছে।”
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পোশাক রফতানির ৫০ শতাংশের বেশি ইউরোপীয় দেশগুলোতে গিয়েছে, যার মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার। এই পরিস্থিতিতে রফতানিকারকরা সতর্ক, যাতে ভবিষ্যতে ভারতের বিনাশুল্ক সুবিধার কারণে তাদের ক্রয়াদেশ হারানোর ঝুঁকি বাড়ে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.