ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং প্রায় ৪০ জন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, এখনই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসার প্রশ্ন নেই।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে প্রকাশিত সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেখানে বলা হয়েছিল তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন করে পারমাণবিক আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েল ঘোষণা করেছে তারা তেহরানের “হৃদয়ে” আঘাত হানছে। একইসঙ্গে লেবাননেও হামলা শুরু করেছে তারা। কারণ, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে একযোগে বহু রকেট নিক্ষেপ করেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় সেখানে অন্তত ৩০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তেহরানের নিলুফার স্কয়ার এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গান্ধী হাসপাতাল এবং একটি পুলিশ ভবন।
ইরান পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে ইসরায়েলের তেল আবিব ও জেরুজালেম লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে মধ্য ইসরাইলের বেইত শেমেশ শহরে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সব লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চলবে। তিনি তিনজন মার্কিন সেনার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে কোনো কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত না থাকায় সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য নতুন এক অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.