আফগানিস্তানের সরকারের হামলার বিরুদ্ধে ‘আত্মরক্ষায়’ পাকিস্তানের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির পররাষ্ট্র দফতরের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান।
এক্স পোস্টে হুকার বলেন, তিনি পাকিস্তান-এর পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালুচ-এর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ‘পাকিস্তান ও তালেবানের সাম্প্রতিক সংঘাতে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর সমবেদনা’ প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও লেখেন, “আমরা পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছি এবং তালেবানের হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় পাকিস্তানের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছি।”
Spoke today with Pakistan Foreign Secretary Baloch to express condolences for lives lost in the recent conflict between Pakistan and the Taliban. We continue to monitor the situation closely and expressed support for Pakistan’s right to defend itself against Taliban attacks.
— Allison M. Hooker (@UnderSecStateP) February 27, 2026
এদিকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির-এর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউস-এর সাউথ লনে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সংঘাতে তিনি হস্তক্ষেপ করবেন কি না।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি করতেও পারি। তবে আপনারা জানেন, পাকিস্তানের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো—খুবই ভালো।”
তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তানের একজন দারুণ প্রধানমন্ত্রী আছেন, একজন দারুণ জেনারেল আছেন। তাদের দুজনকে আমি খুব সম্মান করি। আমার মনে হয়, পাকিস্তান এখন অসাধারণভাবে ভালো করছে।”
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহরে অন্তত ২৯৭ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, ৮৯টি সেনা চৌকি ও ১৩৫টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের পাল্টা হামলায় পাকিস্তানেও প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে।
শুক্রবার পাকিস্তান ‘অপারেশন গজব লিল হক’ নামে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালানোর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামাবাদের দাবি, এতে বহু তালেবান সদস্য হতাহত হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তালেবান সরকারের যেকোনো অপতৎপরতায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে ইসলামাবাদ। তিনি বলেন, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী দেশ রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত।
অন্যদিকে আফগান সেনাপ্রধান ফসিউদ্দিন ফিতরাত পাকিস্তানকে আরও শক্তিশালী জবাবের হুঁশিয়ারি দেন। টলো নিউজ-এর বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো হামলার ক্ষেত্রে পাকিস্তান ‘আরও শক্তিশালী, দৃঢ় ও কার্যকর জবাব’ পাবে।