গণসংবর্ধনায় ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান। সেই প্ল্যানটা হলো বাংলাদেশকে নিয়ে, বাংলাদেশের মানুষকে নিয়ে।” তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশিত একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের ঐতিহাসিক ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন,
“মার্টিন লুথার কিং বলেছিলেন—‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’। আজ আমি বলছি—‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’।”
তিনি জানান, দেশ পুনর্গঠনের জন্য তার একটি সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়েই বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে তারেক রহমান একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন,
“আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেটা একজন মা তার সন্তানের জন্য কল্পনা করেন—একটি নিরাপদ বাংলাদেশ। যেখানে মানুষ নিরাপদে ঘর থেকে বের হতে পারবে এবং নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে।”
এর আগে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দীর্ঘ সময় পর মাতৃভূমিতে পা রেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে তিনি মাটিতে বসে দু-হাতে দেশের মাটি স্পর্শ করেন, যা উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।
বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।
পরবর্তীতে ‘বাংলাদেশ’ লেখা লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসে করে তিনি সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছান। বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ৩টা ৫৮ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন তিনি।
৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে আয়োজিত এই গণসংবর্ধনা জনসমুদ্রে পরিণত হয়, যা সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়।
বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি নতুন, স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।