দীর্ঘ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গাজার রাফাহ সীমান্ত আংশিকভাবে পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মিসরের সঙ্গে সংযুক্ত এই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ দিয়ে আপাতত কেবলমাত্র “সীমিত সংখ্যক মানুষের চলাচল” অনুমোদন দেওয়া হবে।
রাফাহ ক্রসিং গাজাবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ ও প্রস্থানপথ। এই সীমান্ত দিয়ে চিকিৎসা, মানবিক সহায়তা ও জরুরি যাতায়াত পরিচালিত হয়ে থাকে। ফলে আংশিকভাবে সীমান্ত খুলে দেওয়ার ঘোষণাকে অনেকেই মানবিক দিক থেকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন, যদিও সীমিত চলাচলের কারণে সংকট পুরোপুরি কাটবে না বলেই আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই গাজায় আবারও ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। উত্তর ও দক্ষিণ গাজায় একাধিক বিমান হামলায় অন্তত ৩১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে। এটি যুদ্ধবিরতি শুরুর পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিনগুলোর একটি বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ৪০৫ জন আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও এই সহিংসতা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে আন্তর্জাতিক মহলে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭১ হাজার ৭৬৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৮৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। অব্যাহত হামলা ও অবরোধের কারণে গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার ঘটনায় আনুমানিক ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে ইসরায়েল দাবি করে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাফাহ সীমান্ত আংশিক খুললেও যদি পূর্ণাঙ্গ মানবিক করিডোর চালু না হয়, তাহলে গাজার মানবিক পরিস্থিতির বড় ধরনের উন্নতি হবে না। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলা অব্যাহত থাকায় শান্তি প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.